বাজার সূচক কীভাবে হিসাব করা হয়

যে সংখ্যা কেউ যাচাই করতে পারে না, তার কোনো মূল্য নেই। তাই আমাদের পুরো হিসাবটা এখানে খোলা — ঝুড়িতে কী আছে, কত পরিমাণ ধরা হয়, কোথা থেকে দাম আসে, আর কখন আমরা সংখ্যা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকি।

এক নজরে

  1. নাগরিকরা নিজের কেনা দাম জমা দেন — পণ্য, দাম, বাজার, তারিখ, চাইলে রসিদের ছবি।
  2. প্রতিটি জমা মডারেশনে যায়। গড় দাম থেকে ৫০%+ দূরে হলে আলাদা করে চিহ্নিত হয়।
  3. অনুমোদিত দামগুলো থেকে প্রতিটি পণ্যের গত ৭ দিনের গড় বের করা হয়।
  4. নিচের নির্দিষ্ট ঝুড়ির পরিমাণ দিয়ে গুণ করে মোট খরচ বের হয়।
  5. সেই খরচকে আগের সপ্তাহের খরচ = ১০০ ধরে সূচক তৈরি হয়।
সূচক = (এই সপ্তাহের ঝুড়ির খরচ ÷ গত সপ্তাহের ঝুড়ির খরচ) × ১০০

ঝুড়ির পরিমাণ কখনো বদলায় না। তাই সূচক ওঠানামা করলে বুঝতে হবে দাম বদলেছে — আমরা কী মাপছি তা বদলাইনি। (অর্থনীতিতে একে Laspeyres পদ্ধতি বলা হয়।)

রেফারেন্স ঝুড়ি

৪ জনের পরিবার · এক মাস

এটি বাংলাদেশের সাধারণ রান্নাঘর দেখে তৈরি — কোনো সরকারি তালিকা নয়, এবং আমরা তেমন দাবিও করি না। দাবি শুধু এটুকু: পরিমাণগুলো লেখা আছে, বদলায় না, আর যে কেউ দেখে হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন।

পণ্য মাসিক পরিমাণ বর্তমান গড় মাসিক খরচ তথ্য
চাল (মোটা) ২৫ kg তথ্য নেই
চাল (সরু) ৫ kg তথ্য নেই
আটা (খোলা) ৪ kg তথ্য নেই
সয়াবিন তেল (খোলা) ৫ litre তথ্য নেই
মসুর ডাল ৩ kg তথ্য নেই
ছোলা ১ kg তথ্য নেই
পেঁয়াজ (দেশি) ৬ kg তথ্য নেই
রসুন (দেশি) ১ kg তথ্য নেই
আদা ০.৫ kg তথ্য নেই
আলু ১০ kg তথ্য নেই
কাঁচা মরিচ ১ kg তথ্য নেই
টমেটো ৩ kg তথ্য নেই
বেগুন ৩ kg তথ্য নেই
ডিম (ফার্ম) ৬ dozen তথ্য নেই
ব্রয়লার মুরগি ৪ kg তথ্য নেই
রুই মাছ ২ kg তথ্য নেই
চিনি ২ kg তথ্য নেই
লবণ ১ kg তথ্য নেই
তরল দুধ ৮ litre তথ্য নেই
মোট

যে পণ্যের দাম জমা পড়েনি তা হিসাবের বাইরে রাখা হয় — অনুমান করা হয় না। তাই মোট খরচ ০টি পণ্যের, পুরো ১৯টির নয়।

দীর্ঘমেয়াদি সূচক কীভাবে তৈরি হয়

উপরের হিসাবটা এই সপ্তাহ বনাম গত সপ্তাহের। কিন্তু ছয় মাস বা এক বছরের গ্রাফ বানাতে হলে একটা সমস্যা সামনে আসে — প্রতি সপ্তাহে ঝুড়ির কতগুলো পণ্যের দাম জানা যায় তা এক থাকে না

ধরুন গত সপ্তাহে ১৫টি পণ্যের দাম জমা পড়েছিল, এই সপ্তাহে ১৯টির। দুই সপ্তাহের মোট খরচ সরাসরি তুলনা করলে সূচক বেড়ে যাবে — অথচ একটি পণ্যেরও দাম বাড়েনি। শুধু আমাদের তথ্য সংগ্রহ ভালো হয়েছে।

তাই প্রতি সপ্তাহের পরিবর্তন মাপা হয় শুধু সেই পণ্যগুলো দিয়ে যেগুলোর দাম দুই সপ্তাহেই জানা আছে। তারপর সেই পরিবর্তন আগের সপ্তাহের সূচকের সাথে গুণ করে নতুন সূচক তৈরি হয়। পরিসংখ্যানে একে chain-linking বলা হয়; বিশ্বের প্রায় সব দেশের পরিসংখ্যান দপ্তর মূল্যসূচকে এটাই ব্যবহার করে।

এই সপ্তাহের সূচক = গত সপ্তাহের সূচক × (১ + মিলে যাওয়া পণ্যের গড় পরিবর্তন)

প্রথম যে সপ্তাহে ঝুড়ির অন্তত অর্ধেক পণ্যের দাম জানা ছিল, সেটিকে ১০০ ধরা হয়েছে।

  • প্রতি সপ্তাহে একবার সূচক সংরক্ষণ করা হয়, এবং তারপর আর বদলানো হয় না। পুরনো কোনো দাম পরে অনুমোদিত বা বাতিল হলেও প্রকাশিত ইতিহাস অপরিবর্তিত থাকে।
  • যে সপ্তাহে আগের সপ্তাহের সাথে একটিও পণ্য মেলে না, সেই সপ্তাহ গ্রাফে ওঠে না — ফাঁক জোড়া লাগানোর চেয়ে ফাঁক দেখানোই সৎ।
  • প্রতিটি সপ্তাহের সাথে কতটি জমা আর ঝুড়ির কতটি পণ্যের দাম জানা ছিল, তা রাখা আছে।

কখন আমরা সংখ্যা প্রকাশ করি না

  • ঝুড়ির অর্ধেকের কম পণ্যের দাম জানা থাকলে সূচক দেখানো হয় না — শুধু লেখা থাকে তথ্য কম।
  • ৩টির কম জমা থাকলে সেই পণ্য "সবচেয়ে বেড়েছে/কমেছে" তালিকায় ওঠে না — একটি ভুল টাইপ যেন শিরোনাম না হয়।
  • আগের সপ্তাহের তুলনা না থাকলে পরিবর্তনের ঘরে থাকে, শূন্য নয়।
  • যেসব দিনে কেউ দাম জানাননি, চার্টে সেই দিনগুলো বাদ — ফাঁক জোড়া লাগানো হয় না।
  • প্রতিটি সংখ্যার পাশে কতজনের তথ্য আছে তা লেখা থাকে।
এটি সরকারি মূল্যতালিকা নয়। প্রতিটি দাম একজন নাগরিকের বলা কথা। এই সংখ্যা দিয়ে কোনো দোকান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যাবে না। ভুল দেখলে আমাদের জানান — সংশোধন করা হবে।

বর্তমান অবস্থা

এখন সূচক প্রকাশযোগ্য নয়, ০টি জমার ভিত্তিতে, ঝুড়ির ০/১৯ পণ্যের দাম জানা আছে।